বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপি সাবিরা সুলতানার ৫ কোটি টাকার সম্পদ

সাবিরা সুলতানা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জামায়াতে ইসলামীর মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে হেরেছিলেন তিনি। এবার সংরক্ষিত আসন থেকে তাঁকে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিচ্ছে বিএনপি।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত এই প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাঁর বছরে আয় ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
৪৯ বছর বয়সী এই প্রার্থী হলফনামায় পেশা লিখেছেন ‘গৃহিণী, ব্যবসা ও সমাজসেবা’। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। এর আগে আটটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাবিরা সুলতানার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৯ টাকা। এর মধ্যে কৃষি ও মৎস্য খাত থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়িসহ স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয় বা ব্যাংক আমানত থেকে ৬ হাজার ৯১৪ টাকা। তবে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
হলফনামা অনুসারে, সাবিরা সুলতানার অস্থাবর সম্পদের অর্জনমূল্য ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৭ টাকা। তবে তার বর্তমান মূল্যমান আড়াই কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন তিনি। সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮২ টাকা। শেয়ার আছে ৮ লাখ টাকার, যার বর্তমান মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর অংশীদারি ব্যবসা আছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৫ টাকার। তাঁর কাছে ৩০ তোলা (ভরি) সোনা আছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা। এর বাইরে ৩০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ২০ হাজার টাকার আসবাব আছে তাঁর।
সাবিরা সুলতানা তাঁর স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৭০ টাকা। এর মধ্যে ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮২ টাকা মূল্যের ৩৭১ দশমিক ৫০ শতক কৃষি জমি, ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টাকা মূল্যের ৩০৭ দশমিক ৫১ শতক অকৃষি জমি, ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভবন এবং ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর। এসব সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
সাবিরা সুলতানার স্বামী ছিলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম। ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর খুন হন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন সাবিরা সুলতানা। ২০১৪ সালে তিনি বড় ভোটের ব্যবধানে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।