চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন বিএনপি কর্মী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপিকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তালাক দেওয়া হলেও রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগী নারী শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলা গ্রামের মো. সৈবুর রহমানের স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছরের সংসারে তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ২৮, ছোট মেয়ের ২৫ এবং ছেলের বয়স ১৯ বছর। সৈবুর রহমান আগে রিকশা চালালেও বর্তমানে বেকার বলে জানা গেছে।
অভিযোগ করে ওই নারী বলেন, তার স্বামী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় স্বামী তাকে ‘সব ঠিক রাখতে’ বলেন। তবে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন। অতীতেও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি, যা তার স্বামী জানতেন। স্থানীয়দের কথাবার্তার জেরে স্বামী তাকে তালাক দেন বলে দাবি তার।
এ ঘটনায় এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি ভুক্তভোগী। তার ছেলে জানান, তালাকের পর তারা ফুফুর বাড়িতে অবস্থান করছেন। বাবার পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করা হলেও মা আর সংসারে ফিরতে রাজি নন।
যোগাযোগ করা হলে সৈবুর রহমান বলেন, রাগের মাথায় তিনি তালাক দিয়েছেন এবং এখন সেটিকে ভুল বলে মনে করছেন। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা-এর শিবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন বলেন, ভোট দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক অধিকার; এ কারণে তালাক দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর শিবগঞ্জ পৌর নায়েবে আমির আব্দুল আজিজ মাহমুদ জানান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে তালাক দেওয়া হয়ে থাকলে দল ভুক্তভোগীর পাশে থাকবে।