
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত সূত্র জানায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে পেছনে পড়ে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জামায়াত কর্মী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী জানান, তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং আহতদের উদ্ধারে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জড়ো হন। সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনা সদস্যরা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রেজাউল করিমের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে দাবি করেন, হামলায় তাদের দলের ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াত উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।