বিএনপির আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট ।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর ও বের কালোয়া গ্রামে এ হামলা হয়। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালোয়া বাজার ও পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বকুল বিশ্বাসের সঙ্গে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলামের বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি বকুল বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জমারত সরদার (এগলা গ্রুপ)-এর অনুসারীদের।
গত ১ নভেম্বর সকালে রাশিদুলের সমর্থকরা কালোয়া বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে রাশিদুলের কর্মী জিয়ার শেখ ও বিপুল শেখ আহত হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার পর বকুল বিশ্বাসের পক্ষের খাইরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দেন, যা ২ নভেম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় আহত জিয়ার শেখকেও আসামি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিদুলের পক্ষের বিপুল শেখ ২৫ জনকে আসামি করে আরেকটি এজাহার জমা দেন, যদিও তা এখনও পুলিশ নথিভুক্ত করেনি বলে যুবদল নেতা সালমান এফ রহমান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বকুল বিশ্বাসের অনুসারীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে রাশিদুল ইসলামের পক্ষের কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।