নেপালে নারী পর্যটকের গোসলের ছবি ধারণের অভিযোগে বাংলাদেশি পর্বতারোহী আটক

নেপালে এক মালয়েশীয় নারী পর্যটকের গোসলের সময় গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে বাংলাদেশি পর্বতারোহী তৌফিক আহমেদ তমালকে আটক করেছে নেপাল পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী মালয়েশিয়ার নাগরিক নুরধিয়া ইজিয়ান বিনতি মোহদ রাদজা। নেপালে দায়ের করা অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, মাদি হিমাল এলাকায় ভ্রমণকালে কাস্কি জেলার মচ্ছাপুচ্ছ্রে গ্রামীণ পৌরসভার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। গত ৩ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে গোসলরত অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া গোপনে আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী তৌফিক আহমেদ তমাল।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি টের পেয়ে তিনি অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখতে পান বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেপালের ‘ন্যাশনাল পেনাল কোড অ্যাক্ট, ২০১৭’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই হোটেলে এর আগেও তার গোসলের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন। অভিযোগকারী মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ফুটেজকে মামলার আলামত হিসেবে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তৌফিক আহমেদ তমালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে রাখা এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তৌফিক আহমেদ তমাল ‘অলটিটিউড হান্টার বিডি মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব’-এর সদস্য বলে জানা গেছে। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তিনি ২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন বাংলাদেশি নারী ট্রেকার অতীতে তমালের নেতৃত্বে বিভিন্ন ট্রেকিং ও ভ্রমণে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তৌফিক আহমেদ তমালের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। নেপাল পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকেও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে।