
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের জানখারকান্দি গ্রামে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে গ্রামের একটি পারিবারিক কবরস্থানের পাশের বাগানে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও জাজিরা থানা পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রামবাসী ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ককটেল বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। বিস্ফোরণের ফলে বাগানের একটি স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং আশপাশের গাছের ডালপালা ও পাতা ঝলসে গেছে।
খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদী তীরবর্তী বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় চার দশক ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু ব্যক্তি ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহও করে থাকেন।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বিলাসপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায় এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
এদিকে গত শুক্রবার জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে পাওয়া ককটেল হাতে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে রাহাত নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আহত শিশুটি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ছয় মাসে জাজিরা উপজেলার অন্তত ১৫টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।