জামেয়া নুরিয়া টঙ্গীর দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্র একযোগে বহিষ্কার।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে মাওলানা শফী কাসেমী নদভী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে দাওরার সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামেয়া নিরিয়া মাদ্রাসা টঙ্গী, গাজীপুরের আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাসায় মোবাইল চেকিং চালানো হলে দাওরার শিক্ষার্থীরা আগেই বিষয়টি টের পেয়ে মোবাইল সরিয়ে ফেলে। ফলে তাদের কাছ থেকে কোনো মোবাইল উদ্ধার না হলেও অন্যান্য জামাতে মোবাইল পাওয়া যায়। তবে ওই শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দাওরার শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের দরস বর্জন করে দারুল হাদিস কক্ষে তালা লাগিয়ে বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মাওলানা শফী কাসেমী নদভী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভুল স্বীকার করে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পর্যন্ত তারা ক্ষমা প্রার্থনা না করায় শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অবশ্য অনেক শিক্ষার্থী দুঃখ প্রকাশ করে।
তিনি দাবি করেন, বহিষ্কৃত এই শিক্ষার্থী গোষ্ঠী আগের বছরও একটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা অন্যান্য শ্রেণির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
শিক্ষকদের মতে, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য আদব-আখলাক শিক্ষা ও বিশুদ্ধ ইলমের খেদমত। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যদি শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
দাওরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।