ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চস্তরের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তেহরান এই দীর্ঘস্থায়ী স্থগিতাদেশ মেনে না নিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এই বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও বাক্য বিনিময় হয়, যা আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে।
আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে একে অপরের কাছে প্রস্তাব পেশ করলেও তাদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব এখনও অনেক বেশি। তবে আলোচনার ধারা থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দরজা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি এবং দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়ে গেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসন নিশ্চিত করবে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে না। এই প্রতিশ্রুতি ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান অবলম্বন করতে চায়। তবে ইসলামাবাদে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের স্থগিতাদেশ প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান কেবল পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে ইচ্ছুক ছিল, যা মূলত দুই দেশের মধ্যে প্রধান অমিলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ গভীর, তবুও দুই পক্ষ সম্ভবত মধ্যবর্তী অবস্থানে এসে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ১২ বছর ছয় মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিষয়ে একমত হতে পারে। এটি গত দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আলোচনার ভেতরকার পরিবেশ সম্পর্কে জানা গেছে, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের পৃথক কক্ষগুলোতে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈঠকের বিরতিতে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজেদের দেশে বার্তা প্রেরণ করতে দেখা যায়। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনা চলাকালীন একটি বড় অগ্রগতির আশার সঞ্চার হয়েছিল, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনায় গ্যারান্টি ও নিশ্চয়তার বিষয়গুলো—বিশেষ করে পারস্পরিক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি এবং নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যদিও বৈঠক শেষ হয়েছে, তবে আলোচনার ধারা এখনও বন্ধ হয়নি এবং সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পরও শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এই সংলাপ ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।