ট্রাম্পের আক্রমণের মুখেও পোপ বললেন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেই যাবেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়লেও পোপ চতুর্দশ লিও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেননি। আফ্রিকা সফরের পথে আলজেরিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট করে জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধে বিরোধিতা অব্যাহত রাখবেন।
পোপ লিও, যিনি বিশ্বের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীর প্রধান, বলেন যে যিশুখ্রিষ্টের বার্তাকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অপব্যবহার তিনি মেনে নিতে পারেন না। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিতর্কে জড়াতে ইচ্ছুক নন, তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান দৃঢ়।
উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ ইংরেজিতে বলেন, “আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলব এবং শান্তি, আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” তিনি বিশ্বজুড়ে নিরপরাধ মানুষের ওপর সংঘটিত সহিংসতার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “যুদ্ধের পরিবর্তে অন্য কোনো পথ অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।”
পোপ শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীদের আশীর্বাদ করে বলেন, গির্জার বার্তা ও যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তাদের জন্য এক মহৎ কাজ। তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে না দেখে মানবতার সেবায় নিয়োজিত একজন ধর্মগুরু হিসেবে পরিচয় দেন।
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন পোপ। গত শনিবার তিনি যুদ্ধের উন্মাদনা দমন করে শান্তির আহ্বান জানান। এ মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতিতে দুর্বল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।