কুষ্টিয়ায় নিজ স্কুলের কক্ষে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ!

কুষ্টিয়ায় নিজ স্কুলের তালাবদ্ধ কক্ষে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ছত্রগাছা এলাকায় অবস্থিত স্কুলটির তিনতলার একটি কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। ১১ বছর বয়সি শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
স্কুলছাত্রীর দাদি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আমার নাতনি স্কুলে যায়। দুপুরে সব বাচ্চা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলেও নাতনি না ফেরায় আশপাশে অন্যান্য বাচ্চাদের কাছে তার কথা জিজ্ঞাসা করি। সব বাচ্চাই বলে- আমরা সবাই তো একসঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়ে চলে এসেছি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে নাতনির সহপাঠীরা বিকালের দিকে স্কুলে খোঁজ করতে যায়। ওই সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলের দপ্তরি হামিদুলকে তালা খুলে দিতে বললে তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তারা বাড়ি ফিরে আসে।
তিনি আরও বলেন, এরপর রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা আবার স্কুলে গিয়ে দপ্তরির কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে ভেতরে ঢোকে। সেখানে নিচতলায় স্যান্ডেল, দোতলায় স্কুল ব্যাগ এবং তৃতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো আহত অবস্থায় আমার নাতনিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার স্কুলের এসএসসির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে। যেহেতু এই দিন কোনো পাঠদান কার্যক্রম ছিল না, সে কারণে অনুষ্ঠান শেষে স্বাভাবিকভাবে সব শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়। আমরাও সবকিছু গুছিয়ে সবাই বাড়ি চলে যাই। পরে শুনি রাত ৮টার দিকে তালা খুলে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ মোড়ানো আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার্ড করা শিশুটিকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে কেউ কোনো তথ্য দিতে রাজি হচ্ছিল না। পরে শুক্রবার সকালে গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে শিশুটি গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতজনিত কালশিরা ও ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। যে অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে তার ওপর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেটি স্পষ্ট। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
লে রেফার্ড করেন।