ভুমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা ডিভাইস ‘ভুবন’ উদ্ভাবন করলেন বাংলাদেশী।

ভূমিকম্প—অনিবার্য কিন্তু অপ্রত্যাশিত এক দুর্যোগ। আগাম পূর্বাভাস না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কমানোর একমাত্র উপায় ছিল প্রস্তুতি। তবে এবার সেই বাস্তবতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের এক তরুণ উদ্ভাবক।
ইব্রাহিম মোল্লা, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি-এর শিক্ষার্থী, উদ্ভাবন করেছেন ‘ভুবন’ নামের একটি ডিভাইস—যা ভূমিকম্পের ২০ থেকে ৯০ সেকেন্ড আগেই সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। দেড় বছরের গবেষণায় তৈরি এই প্রযুক্তি ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট সিসমিক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে আগাম বিপদের বার্তা দেয়।
উদ্ভাবকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় প্রথমে যে প্রাইমারি ওয়েভ (P-wave) সৃষ্টি হয়, সেটি সাধারণত কম ক্ষতিকর হলেও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর আসে সেকেন্ডারি ওয়েভ (S-wave), যা মূল কম্পন ও ধ্বংসের কারণ। ‘ভুবন’ ডিভাইসটি এই প্রাইমারি ওয়েভ শনাক্ত করেই আগাম সতর্কতা দেয়—ফলে মূল ঝাঁকুনি শুরু হওয়ার আগেই মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পায়।
তথ্যসূত্র- চ্যানেল ২৪
ডিভাইসটি কোনো তাত্ত্বিক ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়; ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেস্টিংয়েও এর কার্যকারিতা প্রায় শতভাগ বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে এটি নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে ব্যবহার করা গেলেও, ভবিষ্যতে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় মাটির নিচে স্থাপন করলে সতর্কবার্তার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে—যা দুই মিনিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন উদ্ভাবক।
নিজের উদ্ভাবনটি ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং জনস্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন ইব্রাহিম মোল্লা। তিনি জানিয়েছেন, সরকার চাইলে ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করবেন।
এরই মধ্যে তার এই উদ্ভাবন স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
তরুণ এই উদ্ভাবকের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ভুবন’ ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করবে।