সর্বশেষ
বান্দরবানের পাহড়ে ২৫০০ একর জায়গায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ঘিরে প্রশ্নইরানের হামলায় আহত ইসরায়েলির সংখ্যা ২,৫৫৭ ও ১২ জন নিহত।দাজ্জালকে ফেরাতেই ইরানে আক্রমণ; নেতানিয়াহুর মন্তব্যে তোলপাড়প্রথম দিনেই সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৯ অধ্যাদেশস্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সারসংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস–জাইমাসহ উপস্থিত ছিলেন যারাহরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান।বাংলাদেশ বিমানের ৪ পাইলটের লাইসেন্সে জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু।বান্দরবানের পাহড়ে ২৫০০ একর জায়গায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ঘিরে প্রশ্নইরানের হামলায় আহত ইসরায়েলির সংখ্যা ২,৫৫৭ ও ১২ জন নিহত।দাজ্জালকে ফেরাতেই ইরানে আক্রমণ; নেতানিয়াহুর মন্তব্যে তোলপাড়প্রথম দিনেই সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৯ অধ্যাদেশস্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সারসংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস–জাইমাসহ উপস্থিত ছিলেন যারাহরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান।বাংলাদেশ বিমানের ৪ পাইলটের লাইসেন্সে জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু।
Live Bangla Logo

বাংলাদেশের নতুন ডিজিএফআই প্রধান ভারত সফরে ‘র’ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক।

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশের নতুন ডিজিএফআই প্রধান ভারত সফরে ‘র’ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার সাম্প্রতিক ভারত সফরকে দুই প্রতিবেশী দেশের শীতল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট–এর এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়া দিল্লি সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পাশাপাশি তিনি ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. এস. রামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরটি গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দুই দেশের গোয়েন্দা পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং এরপর থেকে নয়া দিল্লিতেই অবস্থান করছেন। তার সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দ্রুতই টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও দিল্লি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ এবং একই দিনে উভয় দেশের হাইকমিশনার তলবের মতো ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত কয়েক মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। বিএনপির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পরপরই সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার এই সফরকে ঢাকার পক্ষ থেকে নয়া দিল্লিতে নতুন সরকারের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে প্রিন্ট জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বোঝাপড়া হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকা বিভিন্ন যোগাযোগের চ্যানেল পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কিছু যোগাযোগের চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দেশের যোগাযোগ মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সীমিত পর্যায়ে চলছিল। বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। এটি নতুন সরকারের অধীনে পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর জুড়ে খলিলুর রহমান এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল যোগাযোগ বজায় রাখলেও ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিকিৎসাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হলেও বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা বাড়লে তা ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে রয়েছে। প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী।