চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির হামলায় জামায়াত কর্মী নিহত, আটক ২

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্বশত্রুতার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৪৬) নামে জামায়াতের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হাফিজুর রহমান সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে। তিনি জীবননগর শহরের একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমান, জামায়াত কর্মী মাহফুজ হোসেন (২৫), হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬), তার বাবা জসিম উদ্দিন (৬৫) ও তৌফিক (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্বশত্রুতার জেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সুটিয়া গ্রামে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদাহ বাজারে গেলে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে ইফতারের পর ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে আহত ছয়জনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর পাঠানো হয়। হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাড়িতে আগে হামলা চালানো হয়। পরে গণপিটুনিতে জামায়াতের এক কর্মী মারা যান। এর দায় জামায়াতের ওপর বর্তায় বলে দাবি করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, হাসাদাহ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সালাম ও জসিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। তবে এখনো মামলা দায়ের হয়নি।
রোববার দুপুর ৩টায় নিজ গ্রামে হাফিজুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়। আহত মফিজুর রহমান এখনো শঙ্কামুক্ত নন।