নিউজ
পড়া হচ্ছে...
‘নির্বাচনের পর শায়েস্তা করা হবে’ বলে হুমকি বিএনপি নেতার, সেই ব্যক্তি খুন হলেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে

রাজশাহীর নগরীর খোঁজাপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. মোস্তফা (৫০) নামের এক মিল শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাত আটটার দিকে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে গোরস্তানের পাশের সড়কে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন; পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে মোস্তফার ভাতিজা চঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত হয়। সে সময় একটি দোকানের মালামাল ভাঙচুরের অভিযোগে স্থানীয় উকিল ও বিএনপি নেতা হাসিবুল মোল্লাসহ কয়েকজন চঞ্চলকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মোস্তফাও হামলার শিকার হন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ১০টি সেলাই নিতে হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলা চলছিল।
স্বজনদের অভিযোগ, বিরোধ মীমাংসার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রতিপক্ষ নির্বাচনের আগে কোনো বিচার হবে না বলে হুমকি দেয় এবং ‘লাশ ফেলে’ তারপর মীমাংসায় বসার কথাও বলে। নির্বাচন শেষে মোস্তফাকে ‘শায়েস্তা’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।
নিহতের ভাইয়ের মেয়ে শাকিলা খাতুন বলেন, পরিকল্পিতভাবে একা পেয়ে তাঁর চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। আড়াই মাস আগে ক্যানসারে এক মেয়েকে হারানোর পর পরিবারটি শোকে ছিল; এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকেও হারিয়ে তারা দিশেহারা।
এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। প্রধান আসামিরা হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসিবুল মোল্লা, মো. উকিল ও শিহাবুল ইসলাম। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত উকিল রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তরা সপরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।