জামায়াত নেতা তাহেরের সমাবেশে হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। প্রচারণার প্রথম দিন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া বাজারে আয়োজিত সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত হন এবং মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তাহের। এ সময় তিনি সালাউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাকে স্বাগত জানান এবং বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানান।
ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে উঠে সালাউদ্দিন আহমেদ ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘বুঝে-শুনে রায় দেওয়ার’ কথা বলেন। তিনি জামায়াত প্রার্থী তাহেরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া চান।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তার দাবি, অনেক হত্যা মামলার আসামিকে নিয়ে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, শুধু সালাউদ্দিন নন, আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামায়াত নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল আহমেদ বলেন, সালাউদ্দিন সাবেক চেয়ারম্যান এবং তার পরিবারের সঙ্গে তাহেরের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তার বাড়ির সামনে সমাবেশ হওয়ায় তিনি সেখানে এসে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সালাউদ্দিন চৌদ্দগ্রামের আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ মামলার আসামি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামায়াতের নায়েবে আমির ও প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় আটজন নিহত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী, তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। সালাউদ্দিন আহমেদ ওই মামলার ১১ নম্বর আসামি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধার ভিত্তিতে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক আনুগত্যও বদলে যায়, যা নিয়ে চৌদ্দগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে।