সর্বশেষ
এবারের বিশ্বকাপ কি খেলতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারসস্টার নেইমার?ইরান যুদ্ধের কারণে পেছাল এশিয়ান কাপের ড্রআসামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলায় সিপিজের উদ্বেগবিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিং সমস্যার সমাধান করা হবে: অমিত শাহআমি কেন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলামরাজবাড়ীতে নারীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তরুণদল নেতা সহো আটক ৩।Can Japan’s arms industry gain from Trump trust loss?LIVE: Bayern Munich vs Real Madrid – Champions League quarterfinalএবারের বিশ্বকাপ কি খেলতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারসস্টার নেইমার?ইরান যুদ্ধের কারণে পেছাল এশিয়ান কাপের ড্রআসামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলায় সিপিজের উদ্বেগবিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিং সমস্যার সমাধান করা হবে: অমিত শাহআমি কেন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলামরাজবাড়ীতে নারীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তরুণদল নেতা সহো আটক ৩।Can Japan’s arms industry gain from Trump trust loss?LIVE: Bayern Munich vs Real Madrid – Champions League quarterfinal
Live Bangla Logo

ভিক্ষাবৃত্তিতে সিন্ডিকেট, অতিষ্ঠ সিলেটবাসী!

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৫
ভিক্ষাবৃত্তিতে সিন্ডিকেট, অতিষ্ঠ সিলেটবাসী!

বিশ্বের দ্বিতীয় লন্ডন খ্যাত শহর সিলেট। আর এই সিলেটেই যখন ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি পায় তখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সিলেটবাসী। ভিক্ষুকদের এই ভিক্ষাবৃত্তিতে প্রায়ই হেনস্থার শিকার হন সিলেট ও সিলেটের বাইরে থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। সিলেট নগরীর প্রতিটি বিপণী বিতান মার্কেটগুলো বা শহরের প্রতিটি বাজারে ও মোড়ে মোড়ে এবং রাস্তাঘাটে শুধু ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক। কেউ দলবদ্ধভাবে আবার কেউ কেউ পৃথক হয়ে ভিক্ষা করছেন। সিলেট নগরে এমনিতেই স্থায়ী অনেক ভিক্ষুক রয়েছেন। সিলেটের কোনো উপজেলাই এখন ভিক্ষুকমুক্ত নয়। ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের নিকৃষ্টতম পেশা হলেও বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি যেন লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে।


অনুসন্ধানের দেখা যায়, অল্প সময়ে ভিক্ষাবৃত্তি লাভজনক পেশা হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। এই সংখ্যার তালিকায় ভিক্ষুকদের নাম সিলেটে ইদানিং কয়েকগুণ বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির মোড়ে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, চায়ের দোকান, বিপণি-বিতান, বেশি যানজটের সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যাল, মসজিদ, বাস, ট্রেন, এটিএম বুথ, শপিংমলের সামনে হাজার হাজার ভিক্ষুক ভিক্ষা করছেন। ভিক্ষাবৃত্তিতে কষ্ট না করে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা। আবার নগরীতে বিভিন্ন স্থানে কম দামে আবাসিক হোটেল থাকায় ভিক্ষুকদের থাকার কোনো কষ্ট হয় না। নির্দিষ্ট বাজেটের ভেতরে এই সকল আবাসিক হোটেলে থেকে দেদারসে নগরীতে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন পাড়ি দিচ্ছেন। আবার স্বাভাবিক ভিক্ষুকের পাশাপাশি অন্যদিকে বিভিন্ন মৌসুমকে ঘিরে নগরীতে মৌসুমী ভিক্ষুকদের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। আর এই মৌসুমী ভিক্ষুকরা সিলেটে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। বিভিন্ন মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভিক্ষুকদের পাশাপাশি এই মৌসুমী ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় কয়েকগুন আর তাতেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন নগরবাসী। আর এই ভিক্ষাবৃত্তির পেছনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বেশ কয়েকটি সংগঠন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা যায়, নগরীতে পুরুষের চাইতে শিশু ও নারী ভিক্ষুকদের সংখ্যা অনেক বেশি। বেশিরভাগ নারী ভিক্ষুকদের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০ এর মধ্যে আবার শিশুদের বেলায় দেখা যায় ২ বছর থেকে শুরু করে ১৫ থেকে ১৮ বছরের ভিক্ষুকরা রাস্তার দখল নিচ্ছেন। নগরীতে আসা লোকজনও শিশুদের দেখে ভিক্ষা দিচ্ছেন মনমতো। অন্যদিকে, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় একধরনের ভিক্ষুক রয়েছেন। তারা ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পথচারীদের পা পর্যন্ত চেপে ধরেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীতে বেশ কয়েকটি’ স্থানে কম দামের আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেমন- বন্দর বাজার, শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, সোবহানীঘাট, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা, টিলাগড় এলাকা, আম্বরখানা এলাকা, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া এলাকা, বাগবাড়ি এলাকা, শেখঘাট এলাকা, ওসমানী মেডিকেল এলাকা, কদমতলী এলাকা, হুমায়ুন রশীদ চত্তর এলাকা, লাউয়াই এলাকায় কমদামী আবাসিক হোটেলসহ সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কম বাজেটের ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়ায় থাকেন তারা। আবার উল্লেখিত এলাকাগুলোতে আবাসিক কমদামি হোটেলে অনেক ভিক্ষুকরা ভাড়ায় থাকেন দৈনিক কিংবা মাসিক চুক্তিতে। এসব হোটেলে ভাড়া কম (মাসিক হিসেবে তিন থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়) কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়।

  1.  সিলেট
  2.  বিস্তারিত

ভিক্ষাবৃত্তিতে সিন্ডিকেট, অতিষ্ঠ সিলেটবাসী!

ভিক্ষাবৃত্তিতে সিন্ডিকেট, অতিষ্ঠ সিলেটবাসী!

আরও দেখুন

মৌলভীবাজার জেলা সংবাদ

চাকরির প্রশিক্ষণ কোর্স

লাইফস্টাইল কোচিং

অনলাইন সংবাদ পোর্টাল

বই (সাহিত্য)

সাহিত্য আলোচনা

আর্কাইভ অ্যাক্সেস

বিউটি প্রোডাক্ট

প্রবাসীদের খবর

ভিডিও সংবাদ

বিশ্বের দ্বিতীয় লন্ডন খ্যাত শহর সিলেট। আর এই সিলেটেই যখন ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি পায় তখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সিলেটবাসী। ভিক্ষুকদের এই ভিক্ষাবৃত্তিতে প্রায়ই হেনস্থার শিকার হন সিলেট ও সিলেটের বাইরে থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। সিলেট নগরীর প্রতিটি বিপণী বিতান মার্কেটগুলো বা শহরের প্রতিটি বাজারে ও মোড়ে মোড়ে এবং রাস্তাঘাটে শুধু ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক। কেউ দলবদ্ধভাবে আবার কেউ কেউ পৃথক হয়ে ভিক্ষা করছেন। সিলেট নগরে এমনিতেই স্থায়ী অনেক ভিক্ষুক রয়েছেন। সিলেটের কোনো উপজেলাই এখন ভিক্ষুকমুক্ত নয়। ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের নিকৃষ্টতম পেশা হলেও বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি যেন লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে।


অনুসন্ধানের দেখা যায়, অল্প সময়ে ভিক্ষাবৃত্তি লাভজনক পেশা হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। এই সংখ্যার তালিকায় ভিক্ষুকদের নাম সিলেটে ইদানিং কয়েকগুণ বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির মোড়ে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, চায়ের দোকান, বিপণি-বিতান, বেশি যানজটের সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যাল, মসজিদ, বাস, ট্রেন, এটিএম বুথ, শপিংমলের সামনে হাজার হাজার ভিক্ষুক ভিক্ষা করছেন। ভিক্ষাবৃত্তিতে কষ্ট না করে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা। আবার নগরীতে বিভিন্ন স্থানে কম দামে আবাসিক হোটেল থাকায় ভিক্ষুকদের থাকার কোনো কষ্ট হয় না। নির্দিষ্ট বাজেটের ভেতরে এই সকল আবাসিক হোটেলে থেকে দেদারসে নগরীতে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন পাড়ি দিচ্ছেন। আবার স্বাভাবিক ভিক্ষুকের পাশাপাশি অন্যদিকে বিভিন্ন মৌসুমকে ঘিরে নগরীতে মৌসুমী ভিক্ষুকদের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। আর এই মৌসুমী ভিক্ষুকরা সিলেটে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। বিভিন্ন মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভিক্ষুকদের পাশাপাশি এই মৌসুমী ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় কয়েকগুন আর তাতেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন নগরবাসী। আর এই ভিক্ষাবৃত্তির পেছনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বেশ কয়েকটি সংগঠন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।


মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা যায়, নগরীতে পুরুষের চাইতে শিশু ও নারী ভিক্ষুকদের সংখ্যা অনেক বেশি। বেশিরভাগ নারী ভিক্ষুকদের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০ এর মধ্যে আবার শিশুদের বেলায় দেখা যায় ২ বছর থেকে শুরু করে ১৫ থেকে ১৮ বছরের ভিক্ষুকরা রাস্তার দখল নিচ্ছেন। নগরীতে আসা লোকজনও শিশুদের দেখে ভিক্ষা দিচ্ছেন মনমতো। অন্যদিকে, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় একধরনের ভিক্ষুক রয়েছেন। তারা ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পথচারীদের পা পর্যন্ত চেপে ধরেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীতে বেশ কয়েকটি’ স্থানে কম দামের আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেমন- বন্দর বাজার, শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, সোবহানীঘাট, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা, টিলাগড় এলাকা, আম্বরখানা এলাকা, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া এলাকা, বাগবাড়ি এলাকা, শেখঘাট এলাকা, ওসমানী মেডিকেল এলাকা, কদমতলী এলাকা, হুমায়ুন রশীদ চত্তর এলাকা, লাউয়াই এলাকায় কমদামী আবাসিক হোটেলসহ সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কম বাজেটের ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়ায় থাকেন তারা। আবার উল্লেখিত এলাকাগুলোতে আবাসিক কমদামি হোটেলে অনেক ভিক্ষুকরা ভাড়ায় থাকেন দৈনিক কিংবা মাসিক চুক্তিতে। এসব হোটেলে ভাড়া কম (মাসিক হিসেবে তিন থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়) কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়।


অন্যদিকে সিলেটের এয়ারপোর্ট এলাকার ভিক্ষাবৃত্তির ধরণ একটু ভিন্ন। তারা বিদেশ থেকে দেশে আসা যাত্রীদের হাত-পা ধরে টানাটানি শুরু করে দেন। এতেও কোনো কাজ না হলে যাত্রীদের সাথে থাকা ব্যাগ-লাগেজ ধরেও টানাটানি করতে থাকেন। তবে বিমানবন্দরের ভিক্ষুকদের চাহিদা একটু ভিন্ন। টাকা দিলে তারা তা নিতে গড়িমসি করে আবার অনেক সময় টাকা নেয় না তারা। টাকাতে নয় বরং ডলার, পাউন্ড, রিয়াল কিংবা ইউরোতে সন্তুষ্টি মিলে তাদের। তাদের গ্রুপের মদদদাতারা একটু বেশিই চাহিদাশীল। ডলার, পাউন্ড, রিয়াল কিংবা ইউরো না দিলে কটুক্তিসহ নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে শোনা যায় তাদের। ভিক্ষুকরা বিমানবন্দরে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে টার্গেট করেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তির কী সম্পর্ক- এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছে ডলার-পাউন্ড চাওয়ার জন্যই এমন অভিনব কায়দা বেছে নিয়েছেন ভিক্ষুকরা। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সূচি অনুযায়ী এয়ারপোর্টে তাদের আনাগোনা বাড়ে।