ভারতের সাড়া না পেয়ে বাতিল মিরসরাই ও মোংলার ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প

ভারতের সাড়া না পাওয়ায় মিরসরাই ও মোংলার ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাতিল করেছে বাংলাদেশ।
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১৬ অক্টোবর ২০২৫ঃ
ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই ও বাগেরহাটের মোংলায় প্রস্তাবিত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকার।
২০১৫ সালের সমঝোতা স্মারকে নেওয়া দুটি জিটুজি প্রকল্প বন্ধ; এলওসি তহবিলও বাতিল করেছে ভারত, জমি অন্য কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন,
“ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে জিটুজি কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ধারণাগত পর্যায়েই ছিল, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।”
তিনি জানান, মিরসরাই প্রকল্পের মেয়াদ জুনে শেষ হয়েছে এবং ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) তহবিলও বাতিল করা হয়েছে। জমি অন্য কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বেজা সূত্রে জানা গেছে, ভূমি উন্নয়নের অনুমতি ও দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে ভারতকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৯০০ একর ও মোংলায় ১১০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়।
২০১৯ সালে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়, যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৯৬৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ৯১৫ কোটি ভারতের এলওসি থেকে আসার কথা ছিল।
২০২৩ সালে বেজা আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড লিমিটেড ও ইন্টারন্যাশনাল সিপোর্ট ড্রেজিং প্রাইভেট লিমিটেড–এর কাছে দরপত্র পাঠায়, কিন্তু কেউই অংশ নেয়নি। ভারতের শর্ত অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কেবল ভারতীয় ঠিকাদারকেই করতে হবে এবং ৬৫% সরঞ্জাম ভারত থেকে আনতে হবে—এই শর্তের কারণেই কোনো কোম্পানি আগ্রহ দেখায়নি বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–ভারত যৌথ কার্যকরী দলের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রস্তাব দেয়, দরপত্রে বাংলাদেশি ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে।
প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন,
“বাংলাদেশ তার পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নিয়েছিল, কিন্তু ভারত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম যেন উভয় দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে, কিন্তু ভারত রাজি হয়নি।”
সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন,
“ভারতীয় ঠিকাদারদের অনাগ্রহ ও বাংলাদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণে বাধা—দুই কারণেই প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। তবে এত বড় জমি অব্যবহৃত রাখা যাবে না; সরকার বিকল্প পরিকল্পনা নিচ্ছে।”
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ অব্যাহত আছে।
এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান পেইন্টস (২৬ মিলিয়ন ডলার), ম্যারিকো বাংলাদেশ (২৬.৭২ মিলিয়ন ডলার), রামকি এনভায়রো (১০ মিলিয়ন ডলার) এবং সাকাটা ইনক্স (২.১৩ মিলিয়ন ডলার)