সর্বশেষ
Live Bangla Logo

গাজা শান্তি সম্মেলনে শেহবাজ শরিফের অতিরিক্ত চাটুকারিতা: কূটনীতির লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত।

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
গাজা শান্তি সম্মেলনে শেহবাজ শরিফের অতিরিক্ত চাটুকারিতা: কূটনীতির লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত।

শার্ম এল-শেখ, ১৪ অক্টোবর ২০২৫: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অতিরিক্ত প্রশংসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কূটনীতির এক নতুন লজ্জাজনক রূপ দেখিয়েছে। সম্মেলনে ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ বলে সম্বোধন করে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়ে শরিফের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে চাটুকারিতা কূটনৈতিক কৌশলের স্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্মেলনের মঞ্চে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বক্তব্য দিতে গিয়ে শরিফ বলেন, “আমি এই মহান প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে চাই, কারণ তিনি সত্যিকারের সবচেয়ে চমৎকার প্রার্থী। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এনেছেন এবং গাজায় শান্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচিয়েছেন।” এই অতিরঞ্জিত প্রশংসা শুনে ট্রাম্প হেসে উঠেন এবং বলেন, “এটা অপ্রত্যাশিত! ধন্যবাদ, এটা সুন্দরভাবে বলা হয়েছে।” কিন্তু এই মুহূর্তটি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে আরও ভাইরাল হয়েছে, যিনি অবাক হয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন এবং পরে একটি অস্বস্তিকর হাসি দেন। “জর্জিয়া মেলোনির ভাইরাল প্রতিক্রিয়া”

সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের চাটুকারিতা পাকিস্তানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে দুর্বল করে তোলে। ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, “চাটুকারিতা যখন পররাষ্ট্রনীতি হয়ে ওঠে, তখন এটি কেবল লজ্জাজনক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।” সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এটিকে ‘কূটনৈতিক ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন, যা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাসির পাত্র করে তুলেছে।

এছাড়া, ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে শরিফ প্যালেস্টাইনীয়দের ন্যায়বিচারের দাবিকে উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিকল্পনায় হামাসকে শাসন থেকে বাদ দেওয়া এবং একটি আন্তর্জাতিক বোর্ডের নেতৃত্বে ট্রাম্পের ভূমিকা অনেককে ক্ষুব্ধ করেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এই সমর্থন বিভক্তি সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকে এটিকে ‘অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ’ বলে দেখছেন।

এই ঘটনা দেখায় যে, কূটনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার নামে চাটুকারিতা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। পাকিস্তানের নেতৃত্বকে এখন এই সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।