সর্বশেষ
নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Iran warns Hormuz will stay shut unless US lifts siege on its portsনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Does the world need new leaders? Varsha Gandikota & Naledi PandorLIVE: Manchester City vs Arsenal – Premier Leagueসূত্রের খবর অনুযায়ী, Iran war: 10 frequently used words and their meaningsPope Leo tells Angola during huge Mass to ‘build hope’দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, Peru says presidential election results due by mid-May after delayed countখবরে প্রকাশ, Trump says US negotiators to head to Pakistan for Iran talksসংবাদ সূত্রে জানা গেছে, Displaced Lebanese woman returns to find home destroyed after ceasefireনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Iran warns Hormuz will stay shut unless US lifts siege on its portsনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, Does the world need new leaders? Varsha Gandikota & Naledi PandorLIVE: Manchester City vs Arsenal – Premier Leagueসূত্রের খবর অনুযায়ী, Iran war: 10 frequently used words and their meaningsPope Leo tells Angola during huge Mass to ‘build hope’দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, Peru says presidential election results due by mid-May after delayed countখবরে প্রকাশ, Trump says US negotiators to head to Pakistan for Iran talksসংবাদ সূত্রে জানা গেছে, Displaced Lebanese woman returns to find home destroyed after ceasefire
Live Bangla Logo

নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে মেরে ফেললে আশ্চর্য হবেন নাঃ বদরুদ্দীন উমর

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে মেরে ফেললে আশ্চর্য হবেন নাঃ বদরুদ্দীন উমর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও সে দেশের সরকারের হাতেই তিনি হত্যার শিকার হতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করে গেছেন লেখক, গবেষক ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর।

গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার উমর মারা যাওয়ার পর ওই জবানবন্দি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কৌঁসুলি বি এম সুলতান মাহমুদ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি (বদরুদ্দীন উমর) মারা যাওয়ার আগে এ জবানবন্দি প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছিলেন।”

এ জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অসম্ভব।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ বেলজিয়ামে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতে থাকার সময়ে সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায় উল্লেখ করে উমর বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। সে ওখানেই থাকবে। ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে।

“আরেকটা শাস্তি হতে পারে— যেটা আমি মনে করি— ভারত সরকার তাকে মেরে ফেলবে, নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে। তারা যতদিন তাকে রাখবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে না। আর সেই সম্পর্ক ভালো করতে গেলে তার ব্যাপারে একটা ফয়সালা করতে হবে।”

“ওখানে রাখা যায় কি যায় না— সে প্রশ্ন না। তবে যদি মেরে ফেলে নরেন্দ্র মোদী, আশ্চর্য হবেন না। তারা এমনভাবে বিষয়টা সাজাবে যে- মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে মেরেছে। এরকম একটি সংগঠিত প্রচার চালাবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ‘সবচেয়ে বিস্ফোরক এবং সবচেয়ে রূপান্তরমূলক’ অভ্যুত্থান বলে বর্ণনা করেন উমর। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, “শেখ হাসিনার সরকারের শাসন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। শেখ মুজিব ভারতপন্থি হলেও তিনি ভারতের নির্দেশে চলতেন না। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত।

“এই অবস্থায়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক নীতির প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। এ দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। এটি একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”
শেখ মুজিব বেপরোয়া ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার শাসনশৈলী ও শেখ হাসিনার শাসনশৈলীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে মন্তব্য করে উমর বলেন, “হাজার হলেও, শেখ মুজিব জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা তার ছিল।

“অন্যদিকে, শেখ হাসিনা যেন 'উড়ে এসে জুড়ে বসা'-তিনি শুধু শেখ মুজিবের কন্যা হওয়াতেই ক্ষমতায় এসেছেন। তার নিজের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ছিল না। তিনি 'বাপের বেটি' হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন, কিন্তু শেখ মুজিবের চিন্তা-চেতনার কিছুই তিনি ধারণ করেননি। বরং হাসিনা দেশের রাজনৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছেন।”

SheikhHasina #modi #শেখহাসিনার #লাইভবাংলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও সে দেশের সরকারের হাতেই তিনি হত্যার শিকার হতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করে গেছেন লেখক, গবেষক ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর।

গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার উমর মারা যাওয়ার পর ওই জবানবন্দি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কৌঁসুলি বি এম সুলতান মাহমুদ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি (বদরুদ্দীন উমর) মারা যাওয়ার আগে এ জবানবন্দি প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছিলেন।”

এ জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অসম্ভব।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ বেলজিয়ামে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতে থাকার সময়ে সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায় উল্লেখ করে উমর বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। সে ওখানেই থাকবে। ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে।

“আরেকটা শাস্তি হতে পারে— যেটা আমি মনে করি— ভারত সরকার তাকে মেরে ফেলবে, নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে। তারা যতদিন তাকে রাখবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে না। আর সেই সম্পর্ক ভালো করতে গেলে তার ব্যাপারে একটা ফয়সালা করতে হবে।”

“ওখানে রাখা যায় কি যায় না— সে প্রশ্ন না। তবে যদি মেরে ফেলে নরেন্দ্র মোদী, আশ্চর্য হবেন না। তারা এমনভাবে বিষয়টা সাজাবে যে- মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে মেরেছে। এরকম একটি সংগঠিত প্রচার চালাবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ‘সবচেয়ে বিস্ফোরক এবং সবচেয়ে রূপান্তরমূলক’ অভ্যুত্থান বলে বর্ণনা করেন উমর। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, “শেখ হাসিনার সরকারের শাসন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। শেখ মুজিব ভারতপন্থি হলেও তিনি ভারতের নির্দেশে চলতেন না। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত।

“এই অবস্থায়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক নীতির প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। এ দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। এটি একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”
শেখ মুজিব বেপরোয়া ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার শাসনশৈলী ও শেখ হাসিনার শাসনশৈলীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে মন্তব্য করে উমর বলেন, “হাজার হলেও, শেখ মুজিব জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা তার ছিল।

“অন্যদিকে, শেখ হাসিনা যেন 'উড়ে এসে জুড়ে বসা'-তিনি শুধু শেখ মুজিবের কন্যা হওয়াতেই ক্ষমতায় এসেছেন। তার নিজের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ছিল না। তিনি 'বাপের বেটি' হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন, কিন্তু শেখ মুজিবের চিন্তা-চেতনার কিছুই তিনি ধারণ করেননি। বরং হাসিনা দেশের রাজনৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছেন।”

SheikhHasina #modi #শেখহাসিনার #লাইভবাংলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও সে দেশের সরকারের হাতেই তিনি হত্যার শিকার হতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করে গেছেন লেখক, গবেষক ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর।

গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার উমর মারা যাওয়ার পর ওই জবানবন্দি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কৌঁসুলি বি এম সুলতান মাহমুদ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি (বদরুদ্দীন উমর) মারা যাওয়ার আগে এ জবানবন্দি প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছিলেন।”

এ জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অসম্ভব।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ বেলজিয়ামে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতে থাকার সময়ে সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায় উল্লেখ করে উমর বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। সে ওখানেই থাকবে। ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে।

“আরেকটা শাস্তি হতে পারে— যেটা আমি মনে করি— ভারত সরকার তাকে মেরে ফেলবে, নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে। তারা যতদিন তাকে রাখবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে না। আর সেই সম্পর্ক ভালো করতে গেলে তার ব্যাপারে একটা ফয়সালা করতে হবে।”

“ওখানে রাখা যায় কি যায় না— সে প্রশ্ন না। তবে যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও সে দেশের সরকারের হাতেই তিনি হত্যার শিকার হতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করে গেছেন লেখক, গবেষক ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর।

গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার উমর মারা যাওয়ার পর ওই জবানবন্দি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কৌঁসুলি বি এম সুলতান মাহমুদ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি (বদরুদ্দীন উমর) মারা যাওয়ার আগে এ জবানবন্দি প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছিলেন।”

এ জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অসম্ভব।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ বেলজিয়ামে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতে থাকার সময়ে সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায় উল্লেখ করে উমর বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। সে ওখানেই থাকবে। ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে।

“আরেকটা শাস্তি হতে পারে— যেটা আমি মনে করি— ভারত সরকার তাকে মেরে ফেলবে, নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে। তারা যতদিন তাকে রাখবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে না। আর সেই সম্পর্ক ভালো করতে গেলে তার ব্যাপারে একটা ফয়সালা করতে হবে।”

“ওখানে রাখা যায় কি যায় না— সে প্রশ্ন না। তবে যদি মেরে ফেলে নরেন্দ্র মোদী, আশ্চর্য হবেন না। তারা এমনভাবে বিষয়টা সাজাবে যে- মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে মেরেছে। এরকম একটি সংগঠিত প্রচার চালাবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ‘সবচেয়ে বিস্ফোরক এবং সবচেয়ে রূপান্তরমূলক’ অভ্যুত্থান বলে বর্ণনা করেন উমর। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, “শেখ হাসিনার সরকারের শাসন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। শেখ মুজিব ভারতপন্থি হলেও তিনি ভারতের নির্দেশে চলতেন না। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত।

“এই অবস্থায়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক নীতির প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। এ দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। এটি একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”
শেখ মুজিব বেপরোয়া ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার শাসনশৈলী ও শেখ হাসিনার শাসনশৈলীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে মন্তব্য করে উমর বলেন, “হাজার হলেও, শেখ মুজিব জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা তার ছিল।

“অন্যদিকে, শেখ হাসিনা যেন 'উড়ে এসে জুড়ে বসা'-তিনি শুধু শেখ মুজিবের কন্যা হওয়াতেই ক্ষমতায় এসেছেন। তার নিজের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ছিল না। তিনি 'বাপের বেটি' হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন, কিন্তু শেখ মুজিবের চিন্তা-চেতনার কিছুই তিনি ধারণ করেননি। বরং হাসিনা দেশের রাজনৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছেন।”

SheikhHasina #modi #শেখহাসিনার #লাইভবাংলা তারা এমনভাবে বিষয়টা সাজাবে যে- মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে মেরেছে। এরকম একটি সংগঠিত প্রচার চালাবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ‘সবচেয়ে বিস্ফোরক এবং সবচেয়ে রূপান্তরমূলক’ অভ্যুত্থান বলে বর্ণনা করেন উমর। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, “শেখ হাসিনার সরকারের শাসন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। শেখ মুজিব ভারতপন্থি হলেও তিনি ভারতের নির্দেশে চলতেন না। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত।

“এই অবস্থায়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক নীতির প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। এ দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। এটি একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”
শেখ মুজিব বেপরোয়া ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার শাসনশৈলী ও শেখ হাসিনার শাসনশৈলীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে মন্তব্য করে উমর বলেন, “হাজার হলেও, শেখ মুজিব জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা তার ছিল।

“অন্যদিকে, শেখ হাসিনা যেন 'উড়ে এসে জুড়ে বসা'-তিনি শুধু শেখ মুজিবের কন্যা হওয়াতেই ক্ষমতায় এসেছেন। তার নিজের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ছিল না। তিনি 'বাপের বেটি' হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন, কিন্তু শেখ মুজিবের চিন্তা-চেতনার কিছুই তিনি ধারণ করেননি। বরং হাসিনা দেশের রাজনৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছেন।”

SheikhHasina #modi #শেখহাসিনার #লাইভবাংলা