সর্বশেষ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, Jet fuel shortage: Why Iran war could ground flights in Europeসূত্রের খবর অনুযায়ী, Syria takes control of all bases where US forces were deployedদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, US general clarifies Iranian ports under blockade, not Strait of Hormuzসূত্রের খবর অনুযায়ী, No date set for US-Iran talks, as Pakistan pushes to keep diplomacy aliveগণিত: ৩০টি শূন্যস্থান পূরণ দেখে নাওগণিতের ২৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নইসরায়েল–লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে, থাকবে ছুটিসূত্রের খবর অনুযায়ী, Jet fuel shortage: Why Iran war could ground flights in Europeসূত্রের খবর অনুযায়ী, Syria takes control of all bases where US forces were deployedদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে, US general clarifies Iranian ports under blockade, not Strait of Hormuzসূত্রের খবর অনুযায়ী, No date set for US-Iran talks, as Pakistan pushes to keep diplomacy aliveগণিত: ৩০টি শূন্যস্থান পূরণ দেখে নাওগণিতের ২৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নইসরায়েল–লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে, থাকবে ছুটি
Live Bangla Logo

বাংলাদেশ- পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতায় ভারতের অস্বস্তি।

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৫

বাংলাদেশ- ভারত পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মাস্কাটে সেই বৈঠকের পর কয়েক মাসে মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শুধু কাছাকাছিই আসেনি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি বা যোগাযোগ – প্রায় সব খাতেই দুই দেশের সহযোগিতা নিবিড় থেকে নিবিড়তর হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতেই বহু বছর পর পাকিস্তান থেকে সরাসরি
বাংলাদেশ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালআসে, দুই দেশের মধ্যে আবার শুরু হয় সরাসরি বাণিজ্য।

এরপর ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ডিরেক্ট ফ্লাইট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় পাকিস্তান।
দু'দেশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও একে অপরের দেশে যেতে শুরু করেন, সেই সব সফরের ছবিও প্রকাশ করা হতে থাকে।

এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সফর করে গেলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, তিনি তার সফরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস,বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

ইশহাক দার বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একাত্তর বা গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়েও কথা বলতে দ্বিধা করেননি, এটিকে একটি 'মীমাংসিত বিষয়' বলে দাবি করে তিনি বাংলাদেশিদের 'হৃদয় পরিষ্কার করে' সামনে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনাগুলি এত দ্রুত ও আকস্মিক, যা ভারতকে রীতিমতো উদ্বেগে ফেলেছে।

পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর কিংবা করাচি থেকে চট্টগ্রামে পণ্যের চালান নিয়ে এর আগে যখনই ভারত সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছে, মুখপাত্র বাঁধাধরা জবাব দিয়েছেন, "আমাদের নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন যে কোনো ডেভেলপমেন্টের দিকেই আমরা সতর্ক নজর রাখি।"
কিন্তু ভারতের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের অনেকেই এখন ঢাকা-ইসলামাবাদের এই নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ তাদের স্বার্থকে কীভাবে ব্যাহত করতে পারে এনিয়ে খোলাখুলি কথা বলছেন।

ভারতের প্রধান সেনাধ্যক্ষ (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) জেনারেল অনিল চৌহান পর্যন্ত গত মাসে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের (নিরাপত্তা) স্বার্থের ক্ষেত্রে এক ধরনের 'অভিন্নতা' দেখা যাচ্ছে – ভারতের জন্য যার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।
জেনারেল চৌহান বলেন, "এই তিনটি দেশের ক্ষেত্রে যে সম্ভাব্য 'কনভার্জেন্স অব ইন্টারেস্ট' দেখা যাচ্ছে, তা ভারতের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ডায়নামিক্সের ওপর বড় প্রভাব ফেলতেই পারে!"

একজন বর্ষীয়ান পর্যবেক্ষক হলেন সাবেক আইপিএস অফিসার শান্তনু মুখার্জি, যিনি ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। মরিশাসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদেও ছিলেন এই বিশ্লেষক।
মি মুখার্জি বিবিসিকে বলছিলেন, পাকিস্তান যে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে তাদের দেশে পড়াতে নিয়ে যেতে চাইছে – কিংবা বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে চাইছে – ভারতের জন্য সেটা দুশ্চিন্তার।

"ভারত এতদিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শান্তিনিকেতনে বা বরোদার এম এস ইউনিভার্সিটিতে পড়ার বৃত্তি দিয়েছে, তারা ভারতের সংস্কৃতিতে ও রাবীন্দ্রিক ভাবধারায় দীক্ষিত হয়েছেন এবং সেই চিন্তাধারা নিজের দেশেও নিয়ে গেছেন।"

"পাকিস্তান এখন ঠিক সেই কাজটাই করতে চাইছে তাদের মতো করে। তারা জিন্নাহ বা আল্লামা ইকবালের ডকট্রিনে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে দীক্ষিত করতে চাইছে, যেটা রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবশ্যই এটার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী", বিবিসিকে বলছিলেন শান্তনু মুখার্জি।

লন্ডন-ভিত্তিক জিওপলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট প্রিয়জিৎ দেবসরকার বাংলাদেশ ও ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক রাজনীতি ও কূটনীতি নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক নৈকট্যকে তিনি আবার দেখতে চান একটু ভিন্ন আঙ্গিকে।
"আমি মনে করি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'ওয়ার্ল্ডভিউ'-এর সঙ্গে এর একটা সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াতে ভারত ও পাকিস্তানকে একই হাইফেনে জুড়ে তিনি যেভাবে দুটো দেশকে একই দৃষ্টিতে দেখানোর চেষ্টা করছেন, এটা তারই একটা এক্সটেনশন বা সম্প্রসারণ।"

মানে ট্রাম্প এই অঞ্চলে ভারতকে তাদের প্রধান মিত্র বা সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে মোটেই তুলে ধরতে চান না, বরং চান পাকিস্তান, ভারত ও সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও 'ইকুয়াল ফুটিং'-এ বা এক কাতারে ফেলতে", বিবিসিকে বলছিলেন মি দেবসরকার।
ফলে ঢাকা ও ইসলামাবাদ যাতে নিজেদের মধ্যে কাছাকাছি আসতে পারে, সেই প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনেরও প্রচ্ছন্ন সায় বা সমর্থন আছে বলে তিনি যুক্তি দিচ্ছেন।

বস্তুত বাংলাদেশকে আমেরিকা যে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি 'ভারতের চোখ দিয়ে' আর দেখতে রাজি নয় – এবং বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা নিজেরাই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে – বাইডেন প্রশাসনের আমলেই সেটা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।

শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে মার্কিন ভূমিকার মধ্যে দিয়েও তাদের সেই অবস্থান স্পষ্ট ছিল।
এখন ট্রাম্পের আমলে ঢাকা ও ইসলামাবাদকে কাছাকাছি আনার মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়াতে আমেরিকার কৌশলের পরের ধাপটি রূপায়িত হচ্ছে বলে কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করছেন।

প্রিয়জিৎ দেবসরকারের মতে, পাকিস্তানও এই প্রস্তাব লুফে নিয়েছে – কারণ এই পদক্ষেপ তাদের স্বার্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
বিগত বহু দশক ধরে পাকিস্তানের ঘোষিত নীতিই হলো, 'ব্লিড ইন্ডিয়া উইথ আ থাউজ্যান্ড কাটস' – মানে যত গুলো সম্ভব ধারালো আঘাত করে ভারতকে রক্তাক্ত করো। ভারত মনে করে মুম্বাই, উরি, পুলওয়ামা বা পহেলগাম তাদের সেই নীতিরই প্রতিফলন।"

"ভারতের পশ্চিম সীমান্তে তাদের সে চেষ্টা অব্যাহতভাবেই চলছে, এখন বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতের পূর্ব সীমান্তেও যদিই একই কাজ করা যায় তাহলে পাকিস্তানের লাভ ছাড়া ক্ষতি তো কিছু নেই", বলছিলেন মি. দেবসরকার।

ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান ও উত্তর সীমান্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনা ও কমবেশি সংঘাত চলছে বহুকাল ধরেই। এখন পূর্ব সীমান্তে এতদিন ধরে অপেক্ষাকৃত শান্ত বাংলাদেশ ফ্রন্টিয়ারও সেই তালিকায় যুক্ত হলে ভারতের জন্য সেটা হবে বিরাট এক দুশ্চিন্তার কারণ।

তথ‍্যসূত্র- বিবিসি বাংলা।

লাইভবাংলা #livebangla